পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান (পর্ব-৩)
পশ্চিমবঙ্গের বুকে রয়েছে অসংখ্য ধর্মীয় স্থান যা হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। তারই মধ্যে আমি এই প্রতিবেদনের আগের দুটি পর্বে মোট ১৩টি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আর আজকে এই প্রতিবেদনের তৃতীয় এবং অন্তিম পর্বে আলোচনা করব পশ্চিমবঙ্গের আরও ৮টি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান সম্পর্কে।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান হল ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, যেটি ঠনঠনিয়ার শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির নামেও পরিচিত। লোকমুখে প্রচলিত ১৭০৩ সালে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামক একজন তান্ত্রিক মাটি দিয়ে নিজের হাতে এখানকার কালী প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। সেই মাটির প্রতিমাই প্রতি বছর সংস্কার করা হয়। শঙ্কর ঘোষ নামক একজন ধনী ব্যক্তি ১৮০৬ সালে বর্তমান কালী মন্দিরটি সহ পুষ্পেশ্বর শিবের আটচালা মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই মন্দিরের নিত্যপূজার ব্যয়ভারও গ্রহণ করেছিলেন। এই মন্দিরে জ্যৈষ্ঠ মাসে দেবী ফলহারিণীর, কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবী আদিকালীর ও মাঘ মাসে দেবী রটন্তী কালীর পূজা করা হয়।

ডালি মনাস্ট্রি, দার্জিলিং
এবার যে পশ্চিমবঙ্গের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান প্রসঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি সেটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পীঠস্থান। সমৃদ্ধ তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রমাণ স্বরূপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭০০০ ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং-এর ঢালে মহিমান্বিতভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ডালি মঠ। এই বৌদ্ধ মঠ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেই প্রসিদ্ধ নয়, এর জটিল তিব্বতি শৈলীর স্থাপত্য, রং-বেরঙের ফ্রেস্কো এবং দেয়াল গাত্রে খোদিত অলঙ্করণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কারণ।
১৯৭১ সালে কিবজে থুকসে রিনপোচের সময়ে এই বৌদ্ধ মঠ নির্মিত হয়। এটি দ্রুক সাঙ্গাগ চোলিং মঠ নামেও খ্যাত। এই মঠটি কাগিউপা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত এবং বর্তমানে এটি কাগিউপা সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ প্রধানের প্রধান কার্যালয় ও বাসস্থান। এই মঠে এখন ২০০ জনেরও বেশি তিব্বতি সন্ন্যাসী বসবাস করেন।

১৯৯৩ সালে দালাই লামা তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে শিক্ষাদানের জন্য এখানে তিন দিন অতিবাহিত করেছিলেন।
মঠের অভ্যন্তরে প্রধান প্রার্থনা কক্ষে রয়েছে করুণার মূর্ত প্রতীক অবলোকিতেশ্বরের ৫ মিটার উচ্চ একটি মূর্তি। এছাড়াও এখানকার গ্রন্থাগারে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের উপর বৃহৎ সংখ্যক বই-এর সংগ্রহ রয়েছে।
মৃন্ময়ী মন্দির, বিষ্ণুপুর
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের নামের সাথে জড়িয়ে আছে এক বিশেষ ঐতিহ্য। এখানকার ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায় প্রাচীন মল্ল রাজাদের কাহিনী। তাঁদের তৈরি মন্দিরগুলি এখনও এখানকার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। ঐতিহাসিক তাৎপর্যের সাথে সাথে তৎকালীন অপরূপ স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন এই মন্দিরগুলি। বিষ্ণুপুরে রয়েছে এই রকম অগুনতি মন্দির, যার জন্য এই শহরটি মন্দির শহর নামেও পরিচিত। বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটা শিল্পের কথা কারোরই অজানা নয়। আর বিষ্ণুপুরের বেশিরভাগ মন্দিরগুলিই সেই অসাধারণ শিল্পশৈলীর অপরূপ নিদর্শন।
এখানে অবস্থিত মন্দিরগুলির মধ্যে মৃন্ময়ী মন্দির প্রাচীনতম। ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে রাজা জগৎ মল্ল এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজা জগৎ মল্ল মা মৃন্ময়ীর স্বপ্নাদেশ পান এবং সেই স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী মা মৃন্ময়ীর ইচ্ছানুসারে বিষ্ণুপুরে তিনি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। দেবী দুর্গা এই মন্দিরে মা মৃন্ময়ী রূপে পূজিত হন। সময়ের সাথে সাথে এই মন্দিরটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছিল, তাই এই মন্দিরটিকে পুনরায় নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এই মন্দিরে গঙ্গা মাটির তৈরি সেই পুরানো দেবীর বিগ্রহটিই এখনও পূজিত হয়।

বাংলার প্রাচীনতম দুর্গোৎসব, যেটি প্রায় ১০২১ বছর পূর্বের দুর্গা পূজা, সেই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুর্গা পূজা আজও এই মন্দিরে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। ঘট স্থাপনের পরে প্রথমে বড় ঠাকুরানী, তারপর মেজো ঠাকুরানী এবং সব শেষে ছোট ঠাকুরানীর উপাসনার মধ্যে দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়। এখনও এখানে মহাষ্টমীর দিনে কামানের তোপ দেগে শুরু হয় সন্ধি পূজা। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গোৎসবকে স্বচক্ষে দর্শন করতে চাইলে অতি অবশ্যই আপনাকে দুর্গা পূজার সময় পৌঁছে যেতে হবে এই ঐতিহ্যমণ্ডিত শহরে।
এছাড়াও
সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল, কলকাতা
এবার এমন এক ক্যাথেড্রালের প্রসঙ্গে আলোচনা করব যেটি সমগ্র এশিয়ার প্রথম এপিস্কোপাল গির্জা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কলকাতা শহরের ময়দানের দক্ষিণ প্রান্তে এবং বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পূর্ব দিকে অবস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল। ১৮৩৯ সালে বিশপ ড্যানিয়েল উইলসনের অনুগ্রহে এই গির্জাটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং সেই কাজ সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল মোট ৮ বছর। ১৮৪৭ সালের ৮ই অক্টোবর এই গির্জাটিকে বিশপ ড্যানিয়েল উইলসন কর্তৃক পবিত্র করা হয়। সেই সময় এই গির্জাটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই গির্জাটিকে দু’বার পুনর্নির্মাণ করতে হয়েছিল।

সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালের টাওয়ারটি ক্যান্টারবেরি ক্যাথেড্রালের “বেল হ্যারি” টাওয়ারের আদলে তৈরি করা হয়েছিল এবং এই ক্যাথেড্রালটি সামগ্রিকভাবে ইংল্যান্ডের নরউইচ ক্যাথেড্রালের মতো, যেখানে তিনটি গথিক রঙিন কাঁচের জানলা এবং ফ্লোরেন্টাইন রেনেসাঁ শৈলীর দুটি ফ্রেস্কো রয়েছে। এছাড়াও এখানে চোখে পড়বে বহু স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, প্রত্নবস্তু এবং অপূর্ব সব চিত্র, যেগুলি এই ক্যাথেড্রালকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ধর্মীয় গুরুত্বের সাথে সাথে এই প্রাচীন স্থাপত্যটির ঐতিহাসিক ও শৈল্পিক গুরুত্বও অপরিসীম।
কাটরা মসজিদ, মুর্শিদাবাদ
১৭২৩-১৭২৪ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও বর্তমানে এই মসজিদটির কিছু অংশ ভূমিকম্পের জন্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তবে একসময়ে এই মসজিদেই প্রায় ২০০০ জন ব্যক্তি একসাথে প্রার্থনা করতে পারতেন। কাটরা মসজিদেই নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ-র ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যের সাথে সাথে তৎকালীন স্থাপত্য শিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন এই কাটরা মসজিদ।

বক্রেশ্বর, বীরভূম
পশ্চিমবঙ্গের আরও এক প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান হল বীরভূম জেলার বক্রেশ্বর। পৌরাণিক কাহিনী মতে শিব বিহীন দক্ষ যজ্ঞে স্বেচ্ছায় প্রাণ বিসর্জনকারী দেবী দাক্ষায়ণী সতীর মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর নানান প্রান্তে পতিত হয়ে প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। যে স্থানগুলিতে দেবীর দেহাংশ পতিত হয় সেই সমস্ত পবিত্র স্থানগুলি শক্তিপীঠ বা সতীপীঠ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই রকম ৫১টি শক্তিপীঠ রয়েছে।
বক্রেশ্বর এই ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম একটি মহাশক্তিপীঠ। দেবী সতীর ভ্রুযুগলের মধ্যবর্তী অংশ বা তার মন এই স্থানে পতিত হয়েছিল। দেবী এখানে মহিষমর্দিনী রূপে পূজিত হন।

এছাড়াও পুরাণ ও মহাকাব্যে বর্ণিত অষ্টাবক্র মুনির সাধনক্ষেত্র এই বক্রেশ্বর ধাম। পিতা কহোড় মুনির অভিশাপে (মতান্তরে ইন্দ্রের রোষে) এই মুনির আটটি অঙ্গ বেঁকে যায়, তাই এই ঋষির নাম হয় অষ্টাবক্র। অষ্টাবক্র মুনি রোগ মুক্তির কামনায় ডিহি গ্রামে দেবাদিদেব মহাদেবের সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন। তারই নামানুসারে এই স্থানে শিবের নাম হয় বক্রনাথ বা বক্রেশ্বর এবং তৎকালীন ডিহি গ্রামের নাম হয় বক্রেশ্বর ধাম। প্রতি বছর শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে বক্রেশ্বরে বিশাল মেলা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও হোম যজ্ঞ পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে অগুনতি ভক্তের আগমন ঘটে।
ধর্মীয় তাৎপর্যের সাথে সাথে এই স্থানের বিশেষ ভৌগোলিক তাৎপর্যও রয়েছে। এখানে ১০টি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে- পাপহরা গঙ্গা, বৈতরণী গঙ্গা, শ্বেতগঙ্গা, খরকুণ্ড, ভৈরবকুণ্ড, অগ্নিকুণ্ড, দুধকুণ্ড, সূর্যকুণ্ড, ব্রহ্মাকুণ্ড, অমৃতকুণ্ড।
কিরীটেশ্বরী মন্দির, মুর্শিদাবাদ
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কিরীটকণা গ্রামে দেবী কালীর এই মন্দিরটি অবস্থিত। এই পবিত্র স্থানে দেবী দাক্ষায়ণী সতীর কিরীট অর্থাৎ মাথার মুকুটের একটি কণা পতিত হয়েছিল। এই স্থানটি ৫১ শক্তিপীঠের একটি, তবে এই নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। যেহেতু দেবী সতীর শরীরের কোন অঙ্গ এই স্থানে পতিত হয়নি তাই অনেক তান্ত্রিক এই স্থানটিকে পূর্ণ পীঠস্থান হিসেবে গণ্য করেন না, তাঁরা এই স্থানটিকে উপপীঠ বলেন।
এখানকার বর্তমান মন্দিরটি খুব বেশি প্রাচীন নয়। এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ পূজিত হয় না। এখানে একটি উঁচু পাথরের উপর বেদী তৈরি করা আছে, সেই বেদীর উপরে আরও একটি ছোট বেদী আছে যা দেবীর কিরীট রূপে পূজিত হয়। এই মন্দিরে দেবী ‘বিমলা’ নামে এবং তাঁর ভৈরব ‘সম্বর্ত’ নামে পূজিত হন।

এখানে মূল মন্দির সংলগ্ন অনেক ছোট ছোট মন্দির রয়েছে। পৌষ মাসের প্রতি মঙ্গলবার মন্দির চত্বরে মেলা বসে যেখানে মায়ের অজস্র ভক্তের সমাগম ঘটে।
বিড়লা মন্দির, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান এই বিড়লা মন্দির। এটি দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ অঞ্চলের আশুতোষ চৌধুরী রোডে অবস্থিত। বিড়লা পরিবার এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। ১৯৭০ সালে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২৬ বছর পর ১৯৯৬ সালে সেই কাজ সম্পন্ন হয়। এই মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহের সাথে সাথে দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী দুর্গার বিগ্রহও রয়েছে।

৪৪ কাঠা জমির উপর বিস্তৃত এই মন্দিরটি ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরের আদলে নির্মিত। মন্দিরের চিত্তাকর্ষক অভ্যন্তরটি বৈদ্যুতিক প্রদীপ ও ঝাড়বাতির দ্বারা অলঙ্কৃত। মন্দির গাত্রে ভগবদগীতার দৃশ্যাবলী চিত্রিত রয়েছে যা এর সৌন্দর্যকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এই মন্দিরে মহাসমারোহে জন্মাষ্টমী উদযাপন হয় এবং সেই দিন এখানে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও আরও অন্যান্য হিন্দু উৎসবগুলিও এই মন্দিরে পালন করা হয়। উল্লিখিত প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থানগুলি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় স্থানের নাম হল- হুগলি জেলার সিঙ্গুরের ডাকাত কালী মন্দির, পূর্ব মেদিনীপুরের বর্গভীমা মন্দির, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির, বীরভূমের কঙ্কালীতলা মন্দির, দার্জিলিং-এর ইওলমোওয়া মাক-ধোগ মনাস্ট্রি, বোকার নেগেডন চোখোর লিং মনাস্ট্রি, কালিম্পং-এর থংসা গুম্ফা, থার্পা চোলিং মনাস্ট্রি, কলকাতার সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ ইত্যাদি।

Author
Moumita Sadhukhan
A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation.
