Bengal TravelsBengaliFEATURED

কলকাতায় ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা

মাতৃত্বের সূচনা হয় যখন একটি শিশু তার মাতৃগর্ভে আসে, সেখানে সে নিরাপদে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তারপর সময় আসে তার পৃথিবীর আলো দেখার। মাতৃগর্ভ থেকে মাতৃক্রোড়ে আসার এই যাত্রাটি এক কথায় অমূল্য, যা প্রতিটি মায়ের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। সন্তান গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন হবু মায়েরা খুঁটিনাটি প্রত্যেকটি স্মৃতি অতি যত্নের সাথে সংরক্ষণ করে রাখতে চায়। এই সময়ের সুন্দর কিছু মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করে রেখে পরবর্তীতে মধুর সেই স্মৃতিগুলিকে ফিরে দেখার ইচ্ছা সকল হবু মায়েরই হয়ে থাকে। তাই বর্তমানে ম্যাটারনিটি ফটোশুট করতে বহু দম্পতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এর আগে আমি কলকাতার সেরা প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের ঠিকানা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে আলোচনা করেছি, আর আজকের আলোচ্য বিষয়বস্তু কলকাতায় ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র লোকেশনের সৌন্দর্যই গুরুত্ব পায়, কিন্তু প্রসঙ্গ যখন ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা তখন একটি সুন্দর ব্যাকড্রপের সাথে সাথে তুলনামূলক নিরিবিলি জায়গার খোঁজ করতে হবে যাতে হবু মায়ের কোনোভাবেই কোনো অসুবিধা না হয়। সদা ব্যস্ত এই শহরে এমন অনেক জায়গা আছে যা এর ক্যাকোফোনি থেকে কিছুটা হলেও নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আজকে ম্যাটারনিটি ফটোশুটের জন্য সেই সমস্ত জায়গার খোঁজ নিয়ে চলে এসেছি এই প্রতিবেদনে।

ময়দান

শহর কলকাতার অন্যতম সেরা ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা এই ময়দান।

শহরের ব্যস্ততম জায়গার মাঝে এ এক বিস্তীর্ণ সবুজ মরূদ্যান। সবুজ গালিচা আর আশেপাশের শহুরে জীবন এক সঙ্গে লেন্সে ধরা দেয় এইখানে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা শহীদমিনার কে ব্যাকড্রপে রেখে এখানে করে নেওয়া যেতেই পারে একটি অসাধারণ ম্যাটারনিটি ফটোশুট।

বোটানিক্যাল গার্ডেন

কংক্রিটের শহরে এ যেন এক সবুজে মোড়া স্বর্গরাজ্য। বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালিতে ভরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, তার সাথে নানান প্রজাতির পাখিদের কলরব এখানে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এই মনোরম সবুজাভ পটভূমিকে আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার ম্যাটারনিটি ফটোশুটের জন্য। এখানকার শতাব্দীপ্রাচীন বটগাছের সাথে একটি ফটো ক্লিক করতে একদমই ভুলবেন না।

শোভাবাজার রাজবাড়ি

প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের লোকেশন নিয়ে আলোচনায় আমি জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির কথা বলেছিলাম। সেইরকমই আরও একটি বনেদি বাড়ি হল শোভাবাজার রাজবাড়ি। এই রাজবাড়ীর পরতে পরতে রয়েছে আভিজাত্য ও সাবেকিয়ানার ছোঁয়া যা আপনার ম্যাটারনিটি ফটোশুটকে করে তুলবে অসাধারণ ও অনন্য। তাই সাবেকি সাজে ছবি তুলতে চাইলে এই রাজবাড়িটি আপনার ফটোশুটের জন্য আদর্শ একটি স্থান।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পাশাপাশি ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা হিসেবেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল যথেষ্ট বিখ্যাত। এর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য আমাদের চিরকালই আকর্ষণ করে এসেছে। ১৯০৬ সালে ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর স্থাপত্য সৌন্দর্য ব্রিটিশ রাজের স্মরণ করিয়ে দেয়। ভারতীয়, ইউরোপীয় এবং ফারসি এই তিন স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রণে অভূতপূর্ব স্থাপত্যশিল্পে উদ্ভাসিত শ্বেতশুভ্র মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত এই হেরিটেজ মনুমেন্টটি এককথায় অতুলনীয়। এর সুন্দর বাগানটি বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের গাছ দিয়ে সজ্জিত। সব মিলিয়ে ম্যাটারনিটি ফটোশুটের জন্য একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি করে এই প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভটি।

প্রিন্সেপ ঘাট

শহর কলকাতার আরও একটি ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ঠিকানা হল প্রিন্সেপ ঘাট। ১৮৪১ সালে হুগলি নদীর তীরে নির্মিত প্রিন্সেপ ঘাট মনোরম একটি স্থান। নির্মল ও শান্ত পরিবেশ, তার সাথে অতুলনীয় সুন্দর স্থাপত্য, সঙ্গে বিদ্যাসাগর সেতুর পটভূমি সব মিলিয়ে এই জায়গাটি আপনার অনাগত সন্তানের সাথে আপনার অকৃত্রিম মিষ্টি-মধুর সম্পর্ককে ফ্রেমবন্দি করার একটি আদর্শ ঠিকানা।

সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল

সমগ্র এশিয়ার প্রথম এপিস্কোপাল গির্জা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই অপূর্ব ক্যাথেড্রালটি। কলকাতা শহরের ময়দানের দক্ষিণ প্রান্তে এবং বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পূর্ব দিকে অবস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় স্থান সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রাল। ১৮৩৯ সালে বিশপ ড্যানিয়েল উইলসনের অনুগ্রহে এই গির্জাটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং সেই কাজ সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল মোট ৮ বছর।

সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালের টাওয়ারটি ক্যান্টারবেরি ক্যাথেড্রালের “বেল হ্যারি” টাওয়ারের আদলে তৈরি করা হয়েছিল এবং এই ক্যাথেড্রালটি সামগ্রিকভাবে ইংল্যান্ডের নরউইচ ক্যাথেড্রালের মতো, যেখানে তিনটি গথিক রঙিন কাঁচের জানলা এবং ফ্লোরেন্টাইন রেনেসাঁ শৈলীর দুটি ফ্রেস্কো রয়েছে। এছাড়াও এখানে চোখে পড়বে বহু স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, প্রত্নবস্তু এবং অপূর্ব সব চিত্র, যেগুলি এই ক্যাথেড্রালকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই রকম এক অপূর্ব ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে ব্যাকড্রপ করে আপনি একটি অবিস্মরণীয় ম্যাটারনিটি ফটোশুট করতে পারেন।

নিকো পার্ক

কলকাতার একটি বিখ্যাত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হল নিকো পার্ক। এটি ‘ডিজনিল্যান্ড অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে খ্যাত। এই পার্কটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মজার রাইড।

যদিও এই সময় হবু মা কে বেছে নিতে হবে তার স্বাচ্ছন্দ্যের রাইডটি, যেখানে মম টু বি অ্যান্ড ড্যাড টু বি তাদের অনাগত সন্তানের সাথে প্রথমবারের মতো কোনো রাইডের আনন্দ উপভোগ করবে আর তার সঙ্গে সঙ্গে চলবে ম্যাটারনিটি ফটোশুট। তবে এই ধরনের জায়গায় যেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে, সেখানে উইক ডে অথবা অফ সিজনে ম্যাটারনিটি ফটোশুট করলে তা হবু মায়ের পক্ষে আরামদায়ক হবে।

রবীন্দ্র সরোবর

দক্ষিণ কলকাতার একটি কৃত্ৰিম হ্রদ এই রবীন্দ্র সরোবর। চারিদিকে সবুজ গাছগাছালিতে ভরপুর এটি একটি মনোরম ও শান্ত স্থান। এই লেকটিকে ব্যাকড্রপ করে একটি অসাধারণ ম্যাটারনিটি ফটোশুট করা যেতেই পারে। আপনার ম্যাটারনিটি ফটোশুটের ছবিতে এই লেক ও এখানকার সবুজে মোড়া অকৃত্রিম সৌন্দর্য এক আলাদাই মাত্রা যোগ করবে।

এই আউটডোর ফটোশুটের লোকেশনগুলি ছাড়াও ফটোগ্রাফাররা ফটো স্টুডিওতেও ম্যাটারনিটি ফটোশুট করে থাকেন। তাই আপনি যদি বাইরে কোনো লোকেশনে গিয়ে ফটোশুট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন তাহলে ফটো স্টুডিওতেই এই ফটোশুট করাতে পারেন।

আর আপনি চাইলে আপনার বাড়িও হয়ে উঠতে পারে একটি ফটো স্টুডিও, সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে ফটোগ্রাফাররা হাজির হয়ে যাবে আপনার বাড়িতেই। তারপর আপনি নিজের বাড়িতেই সেরে ফেলতে পারবেন আপনার স্বপ্নের ম্যাটারনিটি ফটোশুট।

Author

Moumita Sadhukhan

A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation. 

Please share your valuable comments and feedback

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!

Discover more from Kuntala's Travel Blog

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading