পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশন
আপামর বাঙালির একটা খুব পছন্দের জায়গা হল পুরী।পুরী বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল সমুদ্র, সোনালী বালুতট আর শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির। যুগ যুগ ধরে বহু পূণ্যার্থী প্রায় সারা বছর ধরেই পুরীর আসেন জগন্নাথ দেবের কৃপা লাভের আশায়।কিন্তু আমাদের চেনা পুরী ছাড়াও আরও একটা পুরী আছে।সেই পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশন -এর কথাই আজ আলোচনা করব।
পুরীর দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে জগন্নাথ দেবের মন্দির ছাড়াও কোণারক,উদয়গিরি,খন্ডগিরি,ধবলগিরি
জগন্নাথ দেবের মাসীর বাড়ি এগুলোই উল্লেখযোগ্য। এখানে পুরীর অফবিট ডেস্টিনেশনের মধ্যে প্রথমেই যেটা আসে সেটা হল
টোটা গোপীনাথের মন্দির
পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশন -এর প্রথমেই আসে টোটা গোপিনাথের মন্দিরের নাম।
টোটা গোপীনাথের মন্দির সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র কৃষ্ণ মন্দির যেখানে কৃষ্ণ হাঁটু মুড়ে বসে আছেন।
টোটা গোপীনাথ বসে আছেন কেন?

টোটা গোপীনাথের দেবতা পূর্বে দন্ডায়মান অবস্থায় ছিলেন এবং গদাধর পণ্ডিত দ্বারা পূজা করা হচ্ছিল। কিন্তু মহাপ্রভুর প্রস্থানের পর গদাই (গদাধারা) বিধ্বস্ত বোধ করেন। প্রিয়তমা গৌরার কাছ থেকে বিচ্ছেদের তীব্র যন্ত্রণায় তার শরীর বেঁকে গেল। যদিও তার বয়স ছিল মাত্র 47, গদাধর বৃদ্ধের মতো চিকন ও চিকন হয়ে গিয়েছিল। তার অস্ত্র তুলতে অক্ষম, গদাই তোতা গোপীনাথকে সাজাতে পারেনি বা তাকে চন্দন ও ফুলের মালা দিতে পারেনি। গদাধর মনে করলেন যে, অন্য একজন পূজারীকে ভগবানের পূজায় নিয়োজিত করাই ভালো। সেই রাতে স্বপ্নে টোটা গোপীনাথ আবির্ভূত হয়ে বললেন, “কেন তুমি আমার সেবায় আর একজন পূজারীকে নিয়োজিত করতে চাও? আমি শুধু চাই তুমি আমার সেবা কর।”
গদাধর উত্তর দিলেন, “হে প্রাণনাথ! আমার অবস্থার কারণে, আমি আর দাঁড়াতে পারি না এবং সঠিকভাবে আপনার সেবা করতে পারি না।” ভগবান গোপীনাথ বললেন, “না, আমি জোর দিচ্ছি যে আপনি একা আমার সেবা করুন। যদি তোমার অসুবিধা হয়, তাহলে কাল থেকে আমি খাটো হয়ে যাব।” পরদিন সকালে যখন গদাধর গোপীনাথের সেবা করার জন্য দেবতার কক্ষে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে পেলেন। পরম করুণাময় প্রভু তাঁর হাত থেকে সেবা পেতে বসেছিলেন।
মন্দিরটি যমেশ্বর টোটা নামে একটি এলাকায় অবস্থিত। বৃক্ষ ও লতাপাতার এই শান্তিময় বাগানে এখানে বসবাস করার সময় গদাধর পণ্ডিতা প্রতিদিন বিকেলে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন। মহাপ্রভু নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং ধ্রুব ও প্রহ্লাদ মহারাজের গল্প 100 বার শুনেছিলেন।
গম্ভীরা মঠ
পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশন -এর মধ্যে দ্বিতীয় টি হল গম্ভীরা মঠ।
পুরীর গম্ভীরায় জীবনের শেষ আঠারোটা বছর কাটিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। অন্তর্ধানের আগে মহাপ্রভু অন্তিমবারের মতো বের হয়েছিলেন সেখান থেকেই। পুরীর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে বাঁয়ে রেখে জগন্নাথ মন্দিরের দিকে সামান্য হাঁটাপথ… গম্ভীরা।ওড়িয়া ভাষায় মন্দিরের মাঝখানে অবস্থিত নির্জন ছোট ঘরকে বলে ‘গম্ভীরা’।
কিন্তু ‘পুরীর গম্ভীরা’ বলতে একটিই পুণ্যস্থল। জগন্নাথ মন্দিরের কাছে বালি শাহীর একটি বিশেষ বাড়ি। বাড়িটি ছিল ওড়িশার রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের কুলগুরু কাশীশ্বর মিশ্রের। আর সেখানেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাটিয়েছিলেন জীবনের শেষ আঠারোটা বছর। অন্তর্ধানের আগে শেষবারের মতো বের হয়েছিলেন এই গম্ভীরা থেকেই।গম্ভীরার এই বাড়িটি আজও শ্রীচৈতন্যর আবাসভূমি হিসেবে ভক্তদের কাছে বিশেষ পরিচিত।
লিঙ্গরাজের মন্দির
পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশন -এর তিন নম্বর হল লিঙ্গরাজের মন্দির।

লিঙ্গরাজ মন্দির ভুবনেশ্বরের সব থেকে বড় মন্দির। কেন্দ্রীয় মিনারটি ১৮০ ফুট উঁচু। মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্যকলা এবং মধ্যযুগীয় ভুবনেশ্বর স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। ধারণা করা হয়ে থাকে মন্দিরটি সোমবংশী রাজত্বকালে নির্মিত যা পরবর্তীতে গঙ্গা শাসকদের হাতে বিকশিত হয়। মন্দিরটি দেউল শৈলীতে নির্মিত যার চারটি ভাগ আছে। সেগুলো হচ্ছে বিমান, জগমোহন, নাট্যমন্দির এবং ভোগমন্ডপ। ভাগগুলোর উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। মন্দির চত্ত্বরটি দেয়ালঘেরা। মন্দির টি তার অপূর্ব সুন্দর শিল্পকলার জন্য বিখ্যাত।
রঘুরাজপুর
পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশনের মধ্যে রঘুরাজপুর হল অন্যতম।এই জায়গায় না গেলে এর মাহাত্ম্য বোঝা যাবেনা ।রঘুরাজপুর হল পুরী থেকে বারো কিলোমিটার দূরে এক পটচিত্র শিল্পী দের গ্রাম। এখানে প্রতিটি ঘরে প্রায় লুপ্তপ্রায় পটচিত্র শিল্পীদের দেখা মেলে। এদের হাতের কাজ অসাধারণ, শিল্পী হিসেবে এদের বিচার করার ক্ষমতা আমার নেই। প্রায় দেড় ঘন্টা আমরা এখানে ছিলাম, কোথা দিয়ে কেটে গেল বুঝতে পারলাম না। এরা খুব গরীব, টুরিস্ট গেলে তবেই এদের আয়।অনেকেই জায়গাটার নাম জানেনা। তাই টুরিস্টদের আনাগোনা কম। অনেক রকম হাতের কাজ আমরা দেখলাম তার কিছু নমুনা আমি এখানে দিয়ে দিলাম। এরপর কেউ পুরী গেলে একবার অন্ততঃ এখানে আসবার অনুরোধ রইল। আশাকরি ঠকবে না।










এখানে সবরকম দামের পটচিত্র পাওয়া যায়।
₹২০০০-২০/২৫০০০ পর্যন্ত।
একটু দরদাম করতে পারলে ভালো। নইলে ₹৫০০,₹২০০,₹১৫০, ও ছোটো খাটো জিনিস পাওয়া যায়।
চন্দ্রভাগা বিচ
পুরীর পাঁচটি অফবিট ডেস্টিনেশনের মধ্যে একটি হল চন্দ্রভাগা বিচ।




পুরী শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে এবং উড়িষ্যার কোনার্কের সূর্য মন্দির থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে যেখানে সেখানে চন্দ্রা নদী সমুদ্রের সাথে মিলিত হয়েছে,সেটাই চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকত নামে পরিচিত চন্দ্রভাগা সমুদ্র সৈকত দেশের সুন্দর দূষণমুক্ত সৈকত। এর অসামান্যভাবে পরিষ্কার উপকূল এবং স্ফটিক স্বচ্ছ জলের কারণে, সৈকত পরিবেশ শিক্ষা ফাউন্ডেশন (এফইই)- দ্বারা নীল পতাকা সার্টিফিকেশন প্রদান করা হয়েছে – যা পরিবেশবান্ধব সৈকতকে একটি ট্যাগ দেওয়া তাদের কঠোর মান পূরণ করার জন্য। দীর্ঘ গাছ এবং সোনালি বালির বিস্তৃতির সাথে সৈকতটির সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম ।।

Author
Rupa
A bibliophile and travel freak with two beautiful twin daughters, loves to explore the world of literature and its varied facets.
