Bengal Art and CraftBengaliFEATURED

জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েটি পণ্য

আজকে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু পশ্চিমবঙ্গের কয়েটি পণ্য যেগুলি জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই ‘জি আই ট্যাগ’-টা কি? ‘জি আই ট্যাগ’ বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের মাধ্যমে যে কোনো পণ্যের উৎস হিসেবে কোনো ভৌগোলিক এলাকা বা অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক এলাকায় উৎপাদিত বা নির্মিত কোনো পণ্যের খ্যাতি বা স্বাতন্ত্র্যের বিষয়টিও ধরা থাকে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগে। কোনো গ্রাহক পণ্যের গুণমান নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে এই জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের মাধ্যমে। এক কথায় বলতে গেলে এই ট্যাগের মাধ্যমে কোনো পণ্যের মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা হয় এবং এই ট্যাগ সেই পণ্যের গুণমান শংসাপত্র হিসেবে কাজ করে।

জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বা কারুশিল্প এবং সেগুলি উৎপাদনকারী বা নির্মাণকারী সম্প্রদায়গুলিকে সংরক্ষণ ও রক্ষা করা।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বারা সর্বপ্রথম জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের ধারণা প্রবর্তিত হয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ দেওয়ার রীতি ভারতবর্ষেও চালু হয়। জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন অফ গুডস (রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রটেকশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৯, আইনটি ভারতবর্ষে কার্যকর হয় ২০০৩ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।

এবার আসা যাক মূল বিষয়বস্তুতে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পণ্য যেগুলি জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ পেয়েছে এবার জেনে নেব সেই সব পণ্য সম্পর্কে।

দার্জিলিং চা

বাঙালির দিন শুরু হয় খবরের কাগজ আর এক পেয়ালা গরম চা দিয়ে। আর সেই চা যদি দার্জিলিং টি হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। বাজারে বিভিন্ন জায়গার চা উপলব্ধ থাকলেও ভালো চা বলতে আমরা দার্জিলিং টি-কেই বুঝি। এর স্বাদ ও গন্ধ এক কথায় অতুলনীয়। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার এই চা সর্বপ্রথম পণ্য যেটি জি আই ট্যাগ পায় ২০০৪ সালে। 

শান্তিনিকেতনের চর্মজাত সামগ্রী

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনের চর্মজাত সামগ্রী বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, যা ২০০৭ সালে জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এখানকার চর্মজাত সামগ্রীতে ব্যবহৃত বাটিকের নক্সাগুলিতে রয়েছে অনবদ্য শিল্পশৈলীর পাশাপাশি চিরন্তনতা এবং ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

এই চর্মজাত সামগ্রীগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এই জাতীয় সামগ্রীর উপর যে নকশাগুলি করা হয় সেগুলিকে শুকনো আনাজের খোসা থেকে উৎপন্ন রঙের মাধ্যমে রাঙিয়ে তোলা হয়। আনাজের খোসা থেকে এই প্রকার রঙ এবং অলংকরণের পদ্ধতিকে ই.আই. ট্যানিং পদ্ধতি বলা হয়।

নকশি কাঁথা

পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পণ্য যেগুলি জি আই ট্যাগ পেয়েছে তারমধ্যে আরও এক ঐতিহ্যবাহী  হস্তশিল্প হল বীরভূমের নকশি কাঁথা। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের নকশি কাঁথা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ পায়। বীরভূম জেলার দক্ষ শিল্পীদের হাতে তৈরি এই নকশি কাঁথাগুলিতে সূক্ষ্ম সুতোর কাজে নানা ধরনের ফুল-ফল, পশু-পাখি, সামাজিক জীবনযাত্রা, পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র ফুটে ওঠে।

লক্ষণভোগ, ফজলি ও হিমসাগর আম

গ্রীষ্মকালের দাবদাহ আমাদের যতই কষ্ট দিক না কেন আমরা বাঙালিরা সারা বছর এই সময়ের জন্যই অপেক্ষা করে থাকি, তার এক অন্যতম প্রধান কারণ হল একমাত্র এই ঋতুতেই ফলের রাজা আমের স্বাদ পাওয়ার সুযোগ মেলে। মূলত গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নানান ধরনের আমের ফলন হয়ে থাকে, যাদের স্বাদ ও গন্ধও ভিন্ন ভিন্ন। এই জায়গাগুলির মধ্যে মালদা জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। এই জেলার তিন ধরনের আম লক্ষণভোগ, ফজলি আর হিমসাগর ২০০৮ সালে জি এই ট্যাগ পেয়েছে।

শান্তিপুরী, ধনিয়াখালি, বালুচরি, টাঙ্গাইল, গরদ ও কোরিয়াল শাড়ি

হস্তচালিত তাঁত শিল্প বা হ্যান্ডলুম মানেই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিখ্যাত শান্তিপুরের তাঁতকে বোঝায়। শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল কারুকার্য করা পাড়ের নকশা। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পণ্য যেগুলি জি আই ট্যাগ পেয়েছে সেই তালিকায় বাংলার এই শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ি নিজের জায়গা করে নেয় ২০০৯ সালে।

নদীয়ার শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ির মতোই হুগলী জেলার ধনেখালির তাঁতের শাড়ির খ্যাতিও কিছু কম নয়। ঐতিহ্যবাহী ধনেখালির তাঁতের শাড়ির জমিন সাধারণত ধূসর রঙের হয় আর পাড়গুলি হয় সরু এবং লাল বা কালো রঙের। ২০১১ সালে ধনেখালির তাঁতও জি আই ট্যাগ পায়।

বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের বালুচরি শাড়ির নাম কে না জানে। এই শাড়ির নকশাগুলি প্রাচীন মন্দিরের পোড়ামাটির টালির নকশার অনুকরণে তৈরি করা হয়। নকশাগুলি ভালো করে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন সেখানে চিত্রিত আছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী, উপজাতিদের জীবনযাত্রা ও বিভিন্ন সামাজিক জীবনযাত্রার ছবি। বিষ্ণুপুরের বালুচরি শাড়ি জি আই ট্যাগ পায় ২০১২ সালে।

এছাড়াও এই বছর জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের টাঙ্গাইল, গরদ ও কোরিয়াল শাড়ি।

জয়নগরের মোয়া, বাংলার রসগোল্লা, বর্ধমানের সীতাভোগ ও মিহিদানা

বাংলার মিষ্টির মধ্যে প্রথম জয়নগরের মোয়া ২০১৫ সালে জি আই ট্যাগ পায়। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত জয়নগর এই মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। জনশ্রুতি অনুসারে জয়নগরের মোয়ার আবিষ্কারক হলেন জয়নগর শহরের নিকটবর্তী বহরু গ্রামের বাসিন্দা যামিনীবুড়ো। তবে এই মোয়ার বাণিজ্যিক বিপণনের পথিকৃৎ বলে ধরা হয় জয়নগর শহরের পূর্ণচন্দ্র ঘোষ ওরফে বুঁচকিবাবু এবং নিত্যগোপাল সরকারকে।

এরপর আসা যাক বাংলার বিখ্যাত মিষ্টি রসগোল্লার কথায়। নবীন চন্দ্র দাশের সর্বকালের সেরা সৃষ্টি রসগোল্লা। বাঙালির এই প্রিয় মিষ্টির আবিষ্কারক হিসেবে তাঁকে ‘রসগোল্লার কলম্বাস’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এই কাহিনী আমাদের সকলেরই জানা, তবে রসগোল্লার জি আই ট্যাগ পাওয়ার লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যা দুই দাবিদার ছিল। ২০১৭ সালে জি আই ট্যাগ পায় বাংলার রসগোল্লা। উড়িষ্যার রসগোল্লা ২০১৯ সালে জি আই ট্যাগ পায়। এটিকে রসগোল্লার উড়িয়া সংস্করণ হিসেবে উড়িষ্যা সরকার দাবি করে।

বড়লাট জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জনকে খুশি করতে বর্ধমানের জমিদার বিজয়চাঁদ মহতাব সেখানকার জনৈক ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগকে বিশেষ মিষ্টি প্রস্তুত করার আদেশ দেন। জমিদারের আদেশে ভৈরবচন্দ্র নাগ প্রস্তুত করেছিলেন বর্ধমানের দুটি বিখ্যাত মিষ্টি সীতাভোগ ও মিহিদানা। পশ্চিমবঙ্গের এই দুই সুপ্রসিদ্ধ মিষ্টিই ২০১৭ সালে জি আই ট্যাগ পায়।

গোবিন্দভোগ চাল, তুলাইপাঞ্জি চাল, উত্তরবঙ্গের কালো নুনিয়া চাল

২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের গোবিন্দভোগ চাল জি আই ট্যাগ পায়। রাঢ় বঙ্গ ও গাঙ্গেয় উপত্যকা অঞ্চলে তিন শতাব্দী ধরে চাষ হয়ে চলেছে সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চালের। এই চাল দিয়ে পোলাও ও পায়েসের মতো সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়।

ওই একই বছরে তুলাইপাঞ্জি চালও জি আই ট্যাগ পায়। তুলাইপাঞ্জি চাল মূলত উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে চাষ হয়। এই চালের ভাত স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়।

এই বছর পশ্চিমবঙ্গের জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের ‘প্রিন্স অফ রাইস’ কালো নুনিয়াও। উত্তরবঙ্গে এই সুগন্ধি চালের চাষ হয়। জি এই ট্যাগ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের এই বিরল সম্পদের বিশ্বব্যাপী প্রচারের দরজা খুলে দিয়েছে, যার মাধ্যমে চাষিরাও যথেষ্ট লাভবান হবেন।

বাংলার পটচিত্র

পটচিত্র বাংলার একটি প্রাচীন লোকচিত্র। সংস্কৃত ‘পট্ট’ শব্দটি থেকে উৎপত্তি হয়েছে ‘পট’ শব্দটির, যার অর্থ কাপড়। কাপড়ের উপরে প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে এই চিত্রাঙ্কন করা হয়ে থাকে। মূলত পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে এই চিত্রগুলি অঙ্কন করা হয় এবং পটুয়ারা গানের মাধ্যমে সেই কাহিনীর বর্ণনা করে থাকেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মূলত মেদিনীপুর ও বীরভূম জেলায় পটুয়া চিত্রকর গোষ্ঠীর বসবাস।

এই প্রাচীনতম চিত্রকলা ২০১৮ সালে জি আই ট্যাগ পায়।

ডোকরা শিল্প

ডোকরা প্রায় ৪০০০ বছর পুরনো একটি প্রাচীন শিল্পকর্ম। মহেঞ্জোদারো শহরে সিন্ধু সভ্যতার সময়কালীন যে ডান্সিং গার্লের মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল তা ডোকরা শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন। নানা ধরনের ধাতব অলংকার, দেব-দেবীর মূর্তি, ঘর সাজাবার জিনিস ‘হারানো মোম ঢালাই’ পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিটি ধাতব ঢালাইয়ের প্রাচীনতম পদ্ধতি। বাঁকুড়া জেলার বিকনা গ্রাম এই প্রাচীন শিল্পকর্মটির জন্য বিখ্যাত। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পণ্য যেগুলি ২০১৮ সালে এখানকার জি আই ট্যাগ পেয়েছে তারমধ্যে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডোকরা শিল্প অন্যতম প্রাচীন ও অনন্য একটি শিল্পকলা।

মাদুর কাঠি

মাদুর শিল্প বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। এই শিল্প ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের জি আই ট্যাগ পায়। মাদুর শিল্পের আঁতুড় ঘর হল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর। শহরাঞ্চলে বর্তমানে মাদুরের ব্যবহার সেভাবে দেখা না গেলেও গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যে দু’জন প্রতিভাবান শিল্পীর হাত ধরে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে তারা হলেন শ্রীমতী গৌরীরানি জানা এবং শ্রীমতী গৌরীবালা দাস। মাদুর শিল্পকে এক অনন্য রূপ দিয়েছেন এই দুই শিল্পী। দক্ষ হাতের কারিগরি দিয়ে এনারা মাদুরের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন নানান পৌরাণিক কাহিনী, প্রাকৃতিক দৃশ্য ইত্যাদির ছবি, যা এক কথায় অনবদ্য। তাদের এই নিপুণ শিল্পকর্মের জন্য তারা রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছেন।

বাঁকুড়ার পাঁচমুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া

টেরাকোটা কথার অর্থ হল ‘পোড়া মাটি’। আর এই টেরাকোটা মানেই আমরা যা বুঝি তা হল বিখ্যাত বাঁকুড়ার ঘোড়া। এই ঘোড়াগুলি একাধিক অংশে বিভক্ত থাকে, যেগুলিকে একত্রিত করলে আপনি একটি সম্পূর্ণ ঘোড়ার কাঠামো পাবেন। মূলত বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া গ্রামের দক্ষ শিল্পীরা এই ঘোড়া তৈরি করে থাকেন। বাঁকুড়ার পাঁচমুড়ার এই বিখ্যাত টেরাকোটা ঘোড়া ২০১৮ সালে জি আই ট্যাগ পায়।

পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ ও কুশমন্ডির কাঠের মুখোশ

বাংলার বিভিন্ন লোকনৃত্যের মধ্যে পুরুলিয়া জেলার ছৌ নাচের খ্যাতি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এই লোকনৃত্যের স্রষ্টা পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের বাসিন্দা পদ্মশ্রী গম্ভীর সিং মুড়া। এই নৃত্যে নৃত্যশিল্পীরা যে মুখোশের ব্যবহার করে থাকেন সেটি ছৌ মুখোশ নামে পরিচিত। এই ছৌ মুখোশ ২০১৮ সালে জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়।

ওই একই বছর কুশমন্ডির কাঠের মুখোশও জি আই ট্যাগ পায়। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র কুশমন্ডি। কুশমন্ডির বিখ্যাত লোকনৃত্য গোমিরা। এই লোকনৃত্যে বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের কাঠের মুখোশ নৃত্যশিল্পীরা ব্যবহার করেন, যে মুখোশগুলি গামারি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।

সুন্দরবনের মৌবন মধু

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভর করে মধু সংগ্রহের উপর। যারা এই মধু সংগ্রহের কাজ করেন তাদের মউলি বলা হয়। মউলিরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে। সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক মধু মৌবন মধু নামে পরিচিত। এ বছর পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি পণ্য যেগুলি জি আই ট্যাগ পেয়েছে সেই তালিকায় রয়েছে সুন্দরবনের এই মৌবন মধু।

Author

Moumita Sadhukhan

A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation. 

Please share your valuable comments and feedback

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!

Discover more from Kuntala's Travel Blog

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading