২৩ জানুয়ারী – নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৮তম জন্মদিন – ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
কোনও রূপকথা বা সিলভার স্ক্রিন নয়, বাঙালির বাস্তবের হিরো তিনি। বাঙালির বিপ্লব, বাঙালির তথা ভারতের স্বদেশী আন্দোলনের তিনি মুখ। আজকের ভারতেও পরিপূর্ণ দেশনেতার সংজ্ঞা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী নন, তিনি বাঙালির উজ্জ্বল ইতিহাস। বিশ্বের তথা ভারতের দৃপ্ততার এক উজ্জল প্রতীক। কিন্তু সময়ের চোরাস্রোতে দেশনায়কের স্মৃতিতে জমেছে পলি। বাঙালির গর্বকে ভুলতে বসেছে খোদ বাঙালি।নেতাজির অদম্য চেতনা এবং জাতির প্রতি নিঃস্বার্থ সেবাকে সম্মান ও স্মরণ করার জন্য, ভারত সরকার প্রতি বছর ২৩শে জানুয়ারী তারিখে তাঁর জন্মদিনটিকে ” পরক্রম দিওয়াস” হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে দেশের মানুষকে, বিশেষ করে যুবকদের অনুপ্রাণিত করা যায়।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত বাংলা প্রদেশের উড়িষ্যা বিভাগের (অধুনা, ভারতের ওড়িশা রাজ্য) কটকে বিখ্যাত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা প্রভাবতী বসু (দত্ত) ছিলেন উত্তর কলকাতার হাটখোলা দত্ত বাড়ির কন্যা এবং পিতা জানকীনাথ বসু ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বিখ্যাত “মাহীনগরের বসু পরিবার” এর সন্তান।
সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন তার পিতা-মাতার চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে নবম তথা ষষ্ঠ পুত্র। তার বাবা জানকীনাথ বসু ছিলেন একজন সফল সরকারি আইনজীবী।তিনি ভাষা ও আইন সম্পর্কিত বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা। ভারতের স্বাধীনতা-অর্জন আন্দোলনে তিনি হলেন এক অতি-উজ্জ্বল ও মহান চরিত্র, যিনি নির্দ্বিধভাবে এই মহাসংগ্রামে নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু’বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু কিন্তু আজাদ হিন্দ ফৌজ পরিচালনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারায় সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ধ্যানে অনেক সময় অতিবাহিত করতেন। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি তাঁর দেশপ্রেমিক সত্তার জন্য পরিচিত ছিলেন।

নেতাজি জয়ন্তী
নেতাজি জয়ন্তী বা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন বা পরাক্রম দিবস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা রাজ্যের একটি সরকারি ছুটির দিন। প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি তারিখে নেতাজি জয়ন্তী পালিত হয়। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এটি দেশপ্রেম দিবস হিসেবেও খ্যাত।
তাঁর জন্মদিন সারা ভারতে পালিত হয় তাঁর মূর্তিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে, ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং স্কুল ও কলেজগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং উড়িষ্যা সহ তিনটি রাজ্যও সুভাষ চন্দ্র বসু জয়ন্তী উদযাপনের জন্য প্রতি বছর ২৩শে জানুয়ারী সরকারি ছুটির আয়োজন করে।

প্রতি বছর ২৩জানুয়ারী, নেতাজি বসুর দেশপ্রেমের দৃঢ় চেতনা, মুক্তির প্রতি তাঁর অটল ভক্তি এবং তাঁর দৃঢ় চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরাক্রম দিবস পালন করা হয়।২০২১ সালে শুরু করা, পরাক্রম দিবস হল ভারতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী স্মরণে একটি বার্ষিক উদযাপন । “পরাক্রম” শব্দটি হিন্দিতে সাহস বা বীরত্বকে অনুবাদ করে, যা নেতাজি এবং যারা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল তাদের দৃঢ় ও সাহসী চেতনাকে প্রতিফলিত করে।সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯শে জানুয়ারী, ২০২১ তারিখে ঘোষণা করেছিল যে ভারতের স্বাধীনতার জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নিরলস সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২৩ জানুয়ারী পরাক্রম দিবস হিসাবে পালন করা হবে। পরক্রম দিবস, যা “বীর্য দিবস”-এ অনুবাদ করা হয়।

Author
Rupa
A bibliophile and travel freak with two beautiful twin daughters, loves to explore the world of literature and its varied facets.
