BengaliBengali MoviesFEATURED

শিশুদের ৭টি সেরা পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র

আজকের আলোচ্য বিষয়বস্তু শিশুদের কয়েকটি সেরা পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র হলেও অভিভাবকদের জন্যও এই প্রতিবেদনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন সিনেমা আপনার ছোট্ট শিশুটির জন্য উপযুক্ত তা কিন্তু আপনাকেই খুবই যত্নের সাথে নির্বাচন করতে হবে। শিশু বয়সেই মনের বিকাশ ঘটে, এই সময় দেখা সিনেমার বিষয়বস্তু বা দৃশ্য অথবা সংলাপ শিশুদের মনে সারা জীবনের জন্য একটি ছাপ রেখে যায়। সঠিক সিনেমা নির্বাচন করে শিশুর মনের সঠিক বিকাশ ঘটানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার হাতেই রয়েছে। তাই আজকে আপনার এবং আপনার ফুটফুটে ছানাটির জন্য হাজির হয়েছি শিশুদের কালজয়ী সব পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে।

পথের পাঁচালী

সাল : ১৯৫৫
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ৫মিনিট
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়   
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : কানু বন্দ্যোপাধ্যায়, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনিবালা দেবী, উমা দাশগুপ্ত প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৮.২/১০

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’। ‘অপু ট্রিলজি’ নামে খ্যাত তিনটি পর্বে নির্মিত অপুর কাহিনী পঞ্চাশের দশকে চলচ্চিত্র জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এই তিনটি পর্বের মধ্যে প্রথম পর্বটিতে অপু ও তার দিদি দুর্গা, এই দুই মুখ্য চরিত্রের বাল্যকালের কাহিনীই মূলত তুলে ধরা হয়েছে। এই সিনেমাটির মাধ্যমে ভাই-বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার সম্পর্ককে আপন ভঙ্গিতে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সত্যজিৎ রায়। গ্রামীণ জীবনের সরলতাই এই সিনেমার মূল বৈশিষ্ট্য। এই কাহিনী যেকোনো শিশু মনকেই ছুঁয়ে যাবে।

কাবুলিওয়ালা

সাল : ১৯৫৭
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ১ঘণ্টা ৫৬মিনিট  
পরিচালক : তপন সিংহ  
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : ছবি বিশ্বাস, ঐন্দ্রিলা ঠাকুর (টিঙ্কু ঠাকুর), রাধা মোহন ভট্টাচার্য, মঞ্জু দে প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৭.৯/১০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ অবলম্বনে ১৯৫৭ সালে একই নামে মুক্তি পায় তপন সিংহের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র। আফগান থেকে আগত এক কাবুলিওয়ালা এবং এক ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুর নির্ভেজাল ভালোবাসার সম্পর্ককে চিত্রায়িত করা হয়েছে এই ছবিতে। এটি একটি পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র হলেও বর্তমান যুগেও এই সিনেমাটির জনপ্রিয়তা একটুও হ্রাস পায়নি।

গল্পে রহমত নামক একজন কাবুল নিবাসী, কলকাতার অলিতে গলিতে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের শুকনো ফল ফেরি করে বেড়ায়। একদিন এক বাঙালি লেখকের ছোট্ট মেয়ে মিনির সাথে রহমতের আলাপ হয়, যাকে দেখে তার কাবুলে ফেলে আসা নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়। ধীরে ধীরে রহমতের সঙ্গে সখ্য বাড়তে থাকে মিনির। এক বিদেশী, বিধর্মী কাবুলিওয়ালার সাথে বাঙালি সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়েটির সম্পর্কের অন্তিম পরিণতি কী হয় সেটা জানতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে এই কালজয়ী সিনেমাটি।

গুপী গাইন বাঘা বাইন

সাল : ১৯৬৯
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ১২মিনিট
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়   
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : তপেন চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, সন্তোষ দত্ত, প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৮.৭/১০

বিশ্ববিশ্রুত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত সিনেমাগুলির মধ্যে অন্যতম একটি সিনেমা হল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। সত্যজিৎ রায় তাঁর পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর কাহিনী অবলম্বনে, তাঁর পুত্র সন্দীপ রায়ের অনুরোধে এই সিনেমাটি তৈরি করেছিলেন।

ভূতের রাজার তিন বরে অতি সহজ-সরল দু’জন মানুষের জীবনের আমূল পরিবর্তনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমাটির মাধ্যমে। এই সিনেমাটিতে সত্যজিৎ রায় ভূত মানেই যে ভয়, সেই ধারণাটিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। এখানে ভূতের ভয়ঙ্কর রূপকে তুলে ধরা হয়নি, বরং ভূতকে ভগবানের সমতুল্য স্থান দেওয়া হয়েছে। যে কারণে আজও শিশুদের মনে ভূতের রাজা এক বিশেষ জায়গায় রয়েছে।

সোনার কেল্লা

সাল : ১৯৭৪
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ১৬মিনিট
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত, কুশল চক্রবর্তী, শান্তনু বাগচী, অজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৮.৩/১০

প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদা, সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। আর তাকে নিয়েই তৈরি ফেলুদা গোয়েন্দা সিরিজের প্রথম ছবি ‘সোনার কেল্লা’। শিশুদের মধ্যে ফেলুদার একটা আলাদাই ক্রেজ আছে। এটি শিশুদের জন্য নির্মিত পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র হলেও, ফেলুদা গোয়েন্দা সিরিজের প্রতিটি ছবিই খুদে দর্শকদের মধ্যে আজও ততটাই জনপ্রিয়।

মুকুল নামক এক ৬ বছরের জাতিস্মর বালকের পূর্বজন্মের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘সোনার কেল্লা’ ছবিটির কাহিনী। মুকুল রাতের পর রাত জেগে বেশ কয়েকটি ছবি আঁকে এবং সেই ছবিগুলি দেখিয়ে সে তার পূর্বজন্মের কথা তার বাবাকে জানায়। সেই ছবিগুলির মধ্যে একটি দুর্গের ছবিকে মুকুল বারবার সোনার কেল্লা বলতে থাকে। ছেলের এই রকম অস্বাভাবিক কথাবার্তা শুনে মুকুলের বাবা তাকে প্যারাসাইকোলজিস্ট ডাঃ হাজরার কাছে নিয়ে যান। কিছুদিন পর ডাঃ হাজরা মুকুলকে নিয়ে দুর্গের সন্ধানে রাজস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

মুকুলের জাতিস্মর হওয়ার খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল এবং সেই প্রতিবেদনে কিছু মূল্যবান রত্নের কথা উল্লেখ ছিল। আর সেই খবর চোখে পড়ে যায় একজোড়া বদমাইশের। তারপর থেকেই বিপদ ঘনিয়ে আসে মুকুলের জীবনে। মুকুলের বাবা সেই বিপদের আঁচ পেয়ে মুকুলকে রক্ষা করতে প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদাকে রাজস্থান সফরে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ করেন। সেই সফরে ফেলুদার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেয় তার খুড়তুতো ভাই তপেশ রঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে। আর সেখানেই তাদের প্রথম আলাপ হয় বিখ্যাত লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর সাথে। 

তার পরের কাহিনী কীভাবে এগোল? মুকুল কি আসলেই একজন জাতিস্মর? সত্যি কি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল সেই অমূল্য রত্নভাণ্ডার? কি হয়েছিল অন্তিম পরিণতি সেই বদমাইশ যুগলের? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে অবশ্যই দেখতে হবে এই কালজয়ী সিনেমাটি।

চারমূর্তি

সাল : ১৯৭৮
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ১ঘণ্টা ৫২মিনিট
পরিচালক: উমানাথ ভট্টাচার্য 
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : চিন্ময় রায়, কৃষ্ণা সাহা, রবি ঘোষ, শম্ভু গঙ্গোপাধ্যায়, শম্ভু ভট্টাচার্য, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৭.৮/১০

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে উমানাথ ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘চারমূর্তি’ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের হাস্যকৌতুকে ভরপুর বিখ্যাত সিনেমাগুলির মধ্যে একটি। পুরনো দিনের সিনেমাগুলিতে আমরা সব সময় যে জিনিসটি খুঁজে পাই তা হল সরলতা। একটি সরল হাসির গল্প এই ‘চারমূর্তি’। শিশুদের বাংলা চলচ্চিত্র হিসাবে এই সিনেমা যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

এই কাহিনীর মূল চরিত্রগুলি হল পটলডাঙ্গার টেনিদা ও তার তিন অনুগামী প্যালা, ক্যাবলা আর হাবুল। তারা তাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ছুটি কাটাতে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর ঠিক হয় তারা রামগড়ের ঝন্টি পাহাড়ে ক্যাবলার মেসোমশাইয়ের বাংলোতে কয়েক দিনের জন্য ছুটি কাটাতে যাবে। তবে সেখানে একটি সমস্যা আছে, আর সেই সমস্যাটি হল ওই বাংলোটি নাকি ভুতুড়ে বাংলো। রামগড়ের সেই বাংলোতে ভূতের দেখা কী পেল এই চারমূর্তি? নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে সেখানে! এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে অবশ্যই দেখতে হবে হাস্যরসে ভরপুর এই সিনেমাটি।

হীরক রাজার দেশে

সাল : ১৯৮০
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ১ঘণ্টা ৫৮মিনিট
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়   
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : তপেন চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৮.৮/১০

গুপী গাইন বাঘা বাইন-এর সিকুয়েল ‘হীরক রাজার দেশে’। এই ছবিটিতে মূলত শাসকের সাথে শোষিতের সংঘাতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই এই সিনেমার মূল কাহিনী। অত্যাচারিত হীরক রাজার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কীভাবে গুপী ও বাঘা ভূতের রাজা প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে উদয়ন পণ্ডিত নামক এক অসহায় শিক্ষককে সহায়তা করে সেই কাহিনীই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিনেমাটিতে। এটি শিশুদের জন্য নির্মিত একটি শিক্ষণীয় পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র। জীবনে শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্বকে বোঝাবার জন্য প্রত্যেক অভিভাবকেরই এই সিনেমাটি তার সন্তানকে দেখানো উচিত।

দামু

সাল : ১৯৯৬
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ৩৬মিনিট  
পরিচালক : রাজা সেন  
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : রঘুবীর যাদব, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, মনোজ মিত্র প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৮.৪/১০

কথার দাম, বিশ্বাস, ভরসা এই শব্দগুলি সময়ের সাথে সাথে কোথাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলি লুপ্তপ্রায় শব্দের তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দগুলির প্রকৃত অর্থ বোঝাতে ‘দামু’ নামক এই বাংলা চলচ্চিত্রটি অবশ্যই আপনার শিশুকে দেখানো উচিত।

এই চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্র দামু একজন সহজ-সরল গ্রামের ছেলে, যে তার রুঙ্কু দিদিকে দেওয়া কথা রাখতে অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলেছে। মজা করে সে রুঙ্কু দিদিকে হাতির পিঠে চাপিয়ে তার দাদুর বাড়ি নিয়ে যাবে বলে। কিন্তু সেই মজার ছলে বলা কথাটিকে ছোট্ট মেয়েটি সত্যি বলে মনে করে নেয়। হাতি ছাড়া রুঙ্কু দিদি কিছুতেই তার দাদুর বাড়িতে যেতে রাজি হয় না। কিন্তু হাতি কীভাবে জোগাড় হবে! শেষমেশ রুঙ্কু দিদির কান্নাকাটি দেখে দামু নিজের গ্রামে না ফিরে বেরিয়ে পরে হাতির খোঁজে। অবশেষে হাতির খোঁজ কী পেল দামু? নাকি খালি হাতে ফিরতে হল তাকে? ছোট্ট মেয়েটির বিশ্বাস, ভরসা আর নিজের দেওয়া কথার দাম রাখতে কি কি প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হল দামুকে? জানতে হলে দেখে নিন এই বিখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্রটি।

Author

Moumita Sadhukhan

A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation. 

One thought on “শিশুদের ৭টি সেরা পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র

Please share your valuable comments and feedback

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!

Discover more from Kuntala's Travel Blog

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading