কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজ
বর্তমান যুগে ওয়েব সিরিজ দর্শকদের মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বহু স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখন সিনেমা তৈরির পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ নির্মাণের কাজেও যুক্ত হয়েছেন। বাংলা বিনোদন জগৎও এখন পিছিয়ে নেই এই কাজে। বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমরা বহু বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখতে পাই, যেখানে রাইটার থেকে শুরু করে ডিরেক্টর ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যথেষ্ট প্রশংসনীয় কাজ করছে। দর্শকদের পছন্দ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে এক সে বড়কর এক বাংলা ওয়েব সিরিজ। আজকে তারইমধ্যে কয়েটি জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজ নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি আমার এই প্রতিবেদনে।
ইন্দুবালা ভাতের হোটেল
সাল : ২০২৩
ভাষা : বাংলা
পরিচালক: দেবালয় ভট্টাচার্য
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, পারিজাত চৌধুরী, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতীক দত্ত, দেবদত্ত রাহা, স্নেহা চট্টোপাধ্যায়, মিঠু চক্রবর্তী প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৮.২/১০
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: হইচই
সিজনের সংখ্যা: ১
পর্বের সংখ্যা: ৮

সংসারের বেড়াজালে থেকেও কীভাবে ইন্দুবালা তার ভাতের হোটেলটি খুলল সেই কাহিনী এবং তার সাথে ইন্দুবালার শৈশব থেকে বার্ধক্যের যাত্রাকে এই জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজটিতে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এক নববিবাহিতা স্ত্রী, চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তার স্বামীর সাথে সুদূর বাংলাদেশ থেকে পাড়ি দিয়েছিল কলকাতায়। নতুন দেশ, নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন অভিজ্ঞতা- সবটাই ইন্দুবালার কাছে ছিল নতুন। যত স্বপ্ন নিয়ে সে এদেশে এসেছিল এক এক করে সব স্বপ্নই তার ভাঙতে লাগল। প্রতিনিয়ত স্বামী ও শাশুড়ির হাজারো অপমান সহ্য করে ইন্দুবালা নিজের মনকে শক্ত করে সংসারের প্রতিটি কর্তব্য পালন করে গেছে। সময়ের সাথে সাথে সে তার অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছে, যারা শুধু থেকে গেছে তার স্মৃতিতে। একটি মেয়েকে তার শিকড় থেকে উপরে অন্যত্র এনে রাখলেও তার শৈশবের স্মৃতি তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়িয়েছে। এই বাংলা ওয়েব সিরিজ আমাদের দেখিয়েছে এক অবহেলিত নারীর জীবন যুদ্ধের কাহিনী। কীভাবে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো যায় তারই এক আদর্শ দৃষ্টান্ত ইন্দুবালা।
গোরা
সাল : ২০২২-২০২৩
ভাষা : বাংলা
পরিচালক: সায়ন্তন ঘোষাল (সিজন-১) এবং জয়দীপ মুখোপাধ্যায় (সিজন-২)
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : ঋত্বিক চক্রবর্তী, সুহোত্র মুখোপাধ্যায়, ঈশা সাহা, অনন্যা সেন, ঊষসী রায়, মানালি দে, মিমি দত্ত, অভিজিৎ গুহ প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৭.৭/১০
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: হইচই
সিজনের সংখ্যা: ২
পর্বের সংখ্যা: ১৬

সিরিয়াল কিলিং স্পেশালিস্ট ডিটেক্টিভ, থুক্কু, “ডিফেক্টিভ” গৌরব সেন ওরফে গোরা আর পাঁচজন গতধরা ডিটেক্টিভের মতো একদমই নয়। খামখেয়ালি, বদমেজাজি গোরা বাবুর কেসের হিস্ট্রি ঘেঁটে মিস্ট্রি তদন্ত করার এক আলাদাই ধরন রয়েছে, যা এই ওয়েব সিরিজটিকে আর পাঁচটা ডিটেক্টিভ ওয়েব সিরিজ থেকে আলাদা করেছে।
২০২২ সালে এই ওয়েব সিরিজের প্রথম সিজন রিলিজ হয়, যেখানে শহর কলকাতার কিছু সাহিত্যিকদের টার্গেট করে এক সিরিয়াল কিলার। অত্যন্ত পৈশাচিকভাবে একই কায়দায় এই খুনগুলি করা হয়। এই কেসের তদন্তের ভার গিয়ে পরে গৌরব সেন ওরফে গোরার উপর। কে এই হত্যাকারী? কেনই বা তার কোপ গিয়ে পড়ল শহরের কয়েকজন সাহিত্যিকের উপর? কীভাবে এই কেসের রহস্য উন্মোচন করলেন “ডিফেক্টিভ” গোরা? এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে “গোরা” সিজন-১-এ।
২০২৩ সালে রিলিজ হয় গোরা সিজন-২। এই সিজনে পর পর একই পরিবারের কয়েকটি কন্যা শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং একটি হসপিটালে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে কয়েকজন স্টাফের সন্দেহজনক মৃত্যু রহস্যের তদন্তের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। “ডিফেক্টিভ” গোরা তার অভিনব কায়দায় আবারও এই কেসদ্বয়ের কিনারায় কীভাবে পৌঁছল, জানতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে “গোরা” সিজন-২।
অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ
সাল : ২০২৪
ভাষা : বাংলা
পরিচালক: জয়দীপ মুখোপাধ্যায়
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : ঋত্বিক চক্রবর্তী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুলাল লাহিড়ী, লোকনাথ দে, অলকানন্দা রায়, দেবরাজ ভট্টাচার্য, খেয়া চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৬.৮/১০
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: হইচই
সিজনের সংখ্যা: ১
পর্বের সংখ্যা: ৭

এই ওয়েব সিরিজটিতে একটি মার্ডার কেসের কাহিনী দেখানো হয়েছে। চলুন সেই কাহিনী সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড, যেই হত্যাকাণ্ডের ১৫জন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে। এই রকম একটি ওপেন-অ্যান্ড-শাট কেস লড়ার সিদ্ধান্ত নেন একজন হোপলেস, অপদার্থ আইনজীবী অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ। মৃত ব্যক্তির নাম পাবলো দত্ত, হত্যাকারী তার স্ত্রী মালিনী দত্ত। মালিনী দত্তের আইনজীবী হয়ে অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ এই কেস লড়েন। তার কাছে এই কেসটি যতটা কঠিন ছিল, তার থেকেও বেশি কঠিন ছিল তাবড় অ্যাডভোকেট সীতারাম গাঙ্গুলির বিরুদ্ধে লড়াই।
সত্যিই কী মালিনী দত্ত তার স্বামী পাবলো দত্তের হত্যাকারী? নাকি এই হত্যার পিছনে রয়েছে অন্য কোনো গোপন কাহিনী?
দুর্গ রহস্য
সাল : ২০২৩
ভাষা : বাংলা
পরিচালক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : অনির্বাণ ভট্টাচার্য, সোহিনী সরকার, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দন সেন, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, দেবেশ রায়চৌধুরী, দেবরাজ ভট্টাচার্য প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৬.৫/১০
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: হইচই
সিজনের সংখ্যা: ১
পর্বের সংখ্যা: ৬

বাংলা গোয়েন্দা গল্পের এক অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী, যার সৃষ্টিকর্তা স্বনামধন্য সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। বইয়ের পাতায় বা সিনেমার রূপোলী পর্দায় সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীকে আমরা সত্য অন্বেষণ করতে বহুবার দেখেছি। তবে বিগত কিছু বছর ধরে সত্যান্বেষী ধরা দিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও।
জানকিগড়ের দুর্গের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিংবদন্তি গুপ্তধন যখন কারণ হয়ে দাঁড়ায় হিস্ট্রির প্রফেসর ঈশান চন্দ্র মজুমদারের রহস্যজনক মৃত্যুর, তখন ইন্সপেক্টর পাণ্ডের তলবে সেই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন করতে জানকিগড়ে উপস্থিত হন সস্ত্রীক ব্যোমকেশ বক্সী এবং অজিত। দুর্গের কোথায় লুকিয়ে আছে সেই গুপ্তধন? মৃত্যু বা মৃত্যুগুলির পিছনে রয়েছে কার চক্রান্ত? জানতে হলে দেখে নিন এই জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজ “দুর্গ রহস্য”।
পর্ণশবরীর শাপ
সাল : ২০২৩
ভাষা : বাংলা
পরিচালক: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিন্দিতা বসু প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং: ৬.৪/১০
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: হইচই
সিজনের সংখ্যা: ১
পর্বের সংখ্যা: ৭

এই বাংলা ওয়েব সিরিজটি সৌভিক চক্রবর্তীর গল্প অবলম্বনে একটি মাইথোলজিক্যাল হরর কাহিনীর উপর তৈরি করা হয়েছে। এই কাহিনী মিতুল, অমিয়, তিতাস ও পল্লবের, এই কাহিনী লাখপা, বৈজন্তী ও সীতার, এই কাহিনী দেবী পর্ণশবরীর।
একটি ভ্যাকেশন কীভাবে নিতে পারে এক ভয়ঙ্কর মোড়, কীভাবে একজনের উপর করা অন্যায়ের কারণে সমস্ত গ্রামকে শিকার হতে হয় এক প্রাচীন দেবীর ক্রোধের, সেই কাহিনীই তুলে ধরা হয়েছে এই ওয়েব সিরিজটিতে।
চমকপুর নামক একটি পাহাড়ি গ্রামে ঘুরতে যায় মিতুল, অমিয়, তিতাস ও পল্লব এই চার বন্ধু। সেখানে গিয়ে হঠাৎই মিতুল কিছু অস্বাভাবিক ও অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করে। মিতুলের এইরূপ আচরণের কারণ ঠিক কী তা জানতে এবং মিতুলকে সুস্থ করে তোলার জন্য অকালটিস্ট নীরেন্দ্রনাথ ভাদুড়ি ওরফে ভাদুড়ি মশাইকে চমকপুরে আসার অনুরোধ করা হয়। চমকপুরে এসে কী বুঝলেন ভাদুড়ি মশাই? কেনই বা মিতুল চমকপুরে এসে এইরূপ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করল? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখে নিন এই জনপ্রিয় বাংলা ওয়েব সিরিজ “পর্ণশবরীর শাপ”।

Author
Moumita Sadhukhan
A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation.

Pingback: শিশুদের ৭টি সেরা পুরনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্র - Kuntala's Travel Blog
Pingback: বাংলায় বিখ্যাত ওয়েব সিরিজ - Kuntala's Travel Blog