BengaliBengali MoviesFEATURED

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কয়েটি বিখ্যাত গোয়েন্দা সিনেমা

গোয়েন্দা সিনেমা মানেই টানটান উত্তেজনা। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ সেই সাদা কালো যুগ থেকে একের পর এক সুপার ডুপার হিট গোয়েন্দা সিনেমা আমাদের উপহার দিয়ে চলেছে। বিখ্যাত লেখকদের লেখা গোয়েন্দা গল্পগুলিকে অবলম্বন করে তৈরি হয়েছে বহু বাংলা গোয়েন্দা সিনেমা। ফেলুদা থেকে শুরু করে ব্যোমকেশ বক্সী, কাকাবাবু, একেন বাবুর মতো গোয়েন্দা চরিত্রগুলি নয় থেকে নব্বই সকলের মনেই এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। গোয়েন্দা গল্পের সব থেকে মজাদার ব্যাপার হল গল্পের মোড় কোন মুহূর্তে কীভাবে বদলে যেতে পারে সেটা বোঝা দর্শকের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। গল্পের ভিলেন কে তা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে সিনেমা দেখতে দেখতে মাঝেমধ্যেই লেগে যায় তর্কাতর্কি। সব মিলিয়ে বাঙালিদের কাছে গোয়েন্দা সিনেমা দেখার একটা আলাদাই ক্রেজ আছে। আজকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কয়েকটি বিখ্যাত গোয়েন্দা সিনেমার খুঁটিনাটি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের জন্য।

সোনার কেল্লা

সাল : ১৯৭৪
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ১৬মিনিট 
লেখক : সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাস অবলম্বনে
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়  
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত, কুশল চক্রবর্তী, শান্তনু বাগচী, অজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৮.৩/১০

প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদা, সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। আর তাকে নিয়েই তৈরি ফেলুদা গোয়েন্দা সিরিজের প্রথম ছবি “সোনার কেল্লা”।

মুকুল নামক এক ৬ বছরের জাতিস্মর বালকের পূর্ব জন্মের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই ছবির কাহিনী। মুকুল রাতের পর রাত জেগে বেশ কয়েকটি ছবি আঁকে এবং সেই ছবিগুলি দেখিয়ে সে তার পূর্ব জন্মের কথা তার বাবাকে জানায়। সেই ছবিগুলির মধ্যে একটি দুর্গের ছবিকে মুকুল বারবার সোনার কেল্লা বলতে থাকে। ছেলের এই রকম অস্বাভাবিক কথাবার্তা শুনে মুকুলের বাবা তাকে প্যারাসাইকোলজিস্ট ডাঃ হাজরার কাছে নিয়ে যান। কিছুদিন পর ডাঃ হাজরা মুকুলকে নিয়ে দুর্গের সন্ধানে রাজস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

মুকুলের জাতিস্মর হওয়ার খবর সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল এবং সেই প্রতিবেদনে কিছু মূল্যবান রত্নের কথা উল্লেখ ছিল। আর সেই খবর চোখে পড়ে একজোড়া বদমাইশের। এখান থেকেই শুরু হয় মুকুলের বিপদ। মুকুলের বাবা সেই বিপদের আঁচ পেয়ে মুকুলকে রক্ষা করতে প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদাকে রাজস্থান সফরে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ করেন। সেই সফরে ফেলুদার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেয় তার খুড়তুতো ভাই তপেশ রঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে। আর এই সফরেই তাদের প্রথম আলাপ হয় বিখ্যাত লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর সাথে। 

তার পরের কাহিনী কীভাবে এগোলো? মুকুল কি আসলেই একজন জাতিস্মর? সত্যি কি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল সেই অমূল্য রত্নভাণ্ডার? কি হয়েছিল অন্তিম পরিণতি সেই বদমাইশ যুগলের? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে অবশ্যই দেখতে হবে এই কালজয়ী সিনেমাটি।

জয়বাবা ফেলুনাথ

সাল : ১৯৭৯
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ১ঘণ্টা ৫২মিনিট 
লেখক : সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাস অবলম্বনে
পরিচালক : সত্যজিৎ রায়
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, সন্তোষ দত্ত প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৭.৯/১০

সোনার কেল্লার পরে নির্মিত ফেলুদা গোয়েন্দা সিরিজের দ্বিতীয় ছবিটি হল “জয় বাবা ফেলুনাথ”।

মগনলাল মেঘরাজ নামক বেনারসের এক অসাধু ব্যবসায়ী সেখানকার এক বাঙালি পরিবারের একটি বহু মূল্যবান গণেশ মূর্তি কিনতে চেয়েছিলেন ওই পরিবারেরই এক সদস্য উমানাথ ঘোষালের থেকে। কিন্তু উমানাথ ঘোষাল মগনলালের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এখান থেকেই শুরু হয় আসল সাসপেন্স।

এই ঘটনার পরই একদিন রাত্রে উমানাথ ঘোষালের বাবার সিন্দুক থেকে চুরি যায় সেই গণেশের মূর্তিটি।

ফেলুদা তার খুড়তুতো ভাই তোপসে এবং তার বন্ধু বিখ্যাত লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর সাথে সেই সময়ই বেনারসে দুর্গা পূজার ছুটি কাটাতে যান। কিন্তু ছুটি কাটাবার আর উপায় কই, সেই চুরি যাওয়া গণেশ মূর্তির তদন্তের ভার এসে পড়ল ফেলুদার উপরে। শেষমেশ কোথায় পাওয়া গেল সেই গণেশ মূর্তি? কেই বা আসল কালপ্রিট? সেটা জানতে হলে দেখতে হবে সম্পূর্ণ সিনেমাটি।

ব্যোমকেশ বক্সী

সাল : ২০১০
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ১৬মিনিট 
লেখক : শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে
পরিচালক : অঞ্জন দত্ত
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : আবির চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, উষসী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৭.৪/১০

বাংলা গোয়েন্দা সিনেমা প্রসঙ্গে বলতে গেলে যে আরও এক বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্রের কথা মনে পড়ে যায়, সেটি হল ব্যোমকেশ বক্সী। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রটিকে ঠিক গোয়েন্দা হিসেবে নয় সত্যান্বেষী হিসেবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন। আর সেই সত্যান্বেষীর চরিত্রকে রুপোলী পর্দায় খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক অঞ্জন দত্ত।

সিনেমার গল্পের সূত্রপাত ঘটে কিছুটা এইভাবে- স্বাধীনতার ১৬ বছর পর ভারত পাকিস্তান সীমান্তে বিবাদের সুযোগ নিয়ে শহর কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছিল হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা, এই রকম এক অশান্ত পরিবেশে অনাদি হালদার নামক এক ব্যক্তির রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তের ভার এসে পরে সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর উপর। এক সময় কিছু বেআইনি কাজ করে অনেক টাকা কামিয়েছিলেন অনাদি হালদার। অনাদি হালদারের এই সম্পত্তিই কি কাল হয়ে দাঁড়াল তার? নাকি তার হত্যার পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? কীভাবে করল ব্যোমকেশ বক্সী সেই সত্য অন্বেষণ? এই সবকিছু জানতে হলে দেখতে হবে এই জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিনেমাটি।

২২শে শ্রাবণ

সাল : ২০১১
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ১৯মিনিট 
পরিচালক : সৃজিত মুখার্জী
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেন, আবির চট্টোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষ প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৮.১/১০

এই সিনেমাটি সিরিয়াল কিলিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত সর্বকালের সেরা বাংলা সিনেমাগুলির মধ্যে অন্যতম। শুরু থেকে শেষ অবধি টানটান উত্তেজনা রয়েছে এই সিনেমাটিতে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা শহরের সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছিল এক সিরিয়াল কিলারের ত্রাস। কখন, কাকে, কীভাবে সেই সিরিয়াল কিলার হত্যা করছে তার কোনো কিনারা করতে পারছিল না ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। প্রতিটি লাশের পাশে পাওয়া যাচ্ছিল বিখ্যাত লেখকদের লেখা কবিতার কয়েকটি লাইন। এই কেসের তদন্তের ভার ছিল ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের একজন খ্যাতনামা ডিটেকটিভ অভিজিৎ পাকড়াশী উপর। তবে বেশ কয়েটি খুন হয়ে যাওয়ার পরও যখন এই কেসের কোনো সুরাহা হচ্ছিল না তখন অভিজিৎ পাকড়াশীকে এই কেসে সাহায্য করার জন্য এক্স কপ প্রবীর রায়চৌধুরীকে নিয়োগ করার কথা ভাবে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অফিসার অমিত কুমার শ্রীবাস্তব। একটি ফলস্ এনকাউন্টারের জন্য বেশ কয়েক বছর আগে প্রবীর রায়চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে তার মতো বুদ্ধিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ একজন পুলিশ অফিসারই এই কেসের কিনারা করতে পারবে তা অমিত কুমার শ্রীবাস্তবের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।

কেসের কিনারা কি শেষ পর্যন্ত হল? নাকি ধোঁয়াশার মধ্যে থেকে গেল সম্পূর্ণ ঘটনাটি? অ্যাকশন, ক্রাইম, ড্রামা, মিস্ট্রি, থ্রিলার সব রকম স্বাদ এক সাথে পেতে এই অসাধারণ গোয়েন্দা সিনেমাটি অবশ্যই দেখতে হবে। 

এবার শবর

সাল : ২০১৫
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ২ঘণ্টা ০৪মিনিট 
লেখক : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে
পরিচালক : অরিন্দম শীল
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, শুভ্রজিৎ দত্ত, পায়েল সরকার, জুন মালিয়া, ঋত্বিক চক্রবর্তী প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৭.২/১০

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত অরিন্দম শীল পরিচালিত এবার শবর অন্যতম বিখ্যাত একটি বাংলা গোয়েন্দা সিনেমা। শবর দাশগুপ্ত, গোয়েন্দা, লালবাজার- এই চরিত্রটি অন্যান্য গোয়েন্দা চরিত্রগুলির থেকে বেশ কিছুটা অন্যরকম। তাই তার রহস্য উন্মোচন করার পদ্ধতিও একটু আলাদা। নিজেকে ফ্ল্যাশ ব্যাকে নিয়ে গিয়ে ক্রাইম সিনটাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পছন্দ করেন শবর দাশগুপ্ত।

এই ছবিটিতে মিতালি ঘোষ নামক এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলার হত্যা রহস্য সমাধানের ভার এসে পড়ে শবর দাশগুপ্তের উপর। মিতালি ঘোষকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিন রাতে তিনি তার বাড়িতে একটি পার্টি দেন। সেই পার্টিতে উপস্থিত ছিল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের কিছু সদস্য। পরের দিন সকালে মিতালি ঘোষের লাশ পাওয়া যায় তার বেডরুমে। কে বা কারা জড়িত এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সেটা জানতে হলে দেখে নিন শবর গোয়েন্দা সিরিজের অন্যতম সেরা ছবি এবার শবর।

ঈগলের চোখ

সাল : ২০১৬
ভাষা : বাংলা 
সময়কাল : ১ঘণ্টা ৫৭মিনিট 
লেখক : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে
পরিচালক : অরিন্দম শীল
অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ : শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, জয়া আহসান, শুভ্রজিৎ দত্ত, পায়েল সরকার, জুন মালিয়া প্রমুখ
আইএমডিবি রেটিং : ৭.২/১০

শবর গোয়েন্দা সিরিজের আরও এক জনপ্রিয় ছবি ঈগলের চোখ। বিষাণ রায় ও শিবাঙ্গী রায় নামক এক দম্পতির বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি ডাকাতির তদন্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এই ছবির কাহিনী। ডাকাতির সাথে সাথে সেই রাতে দুষ্কৃতীরা শিবাঙ্গী রায়কে গুরুতরভাবে জখম করে এবং তার বান্ধবী নন্দিনীকে হত্যা করে। ঘটনাটি কি নিছক একটি ডাকাতি ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল অন্য কোনো উদ্দেশ্য? শবর দাশগুপ্ত কীভাবে করল সেই রহস্য উন্মোচন? সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে শুরু করে রহস্য-রোমাঞ্চ সবকিছুই রয়েছে এই সিনেমাটিতে।

Author

Moumita Sadhukhan

A big foodie and a fun-loving person, love to explore the beauty of nature and want to introduce Indian cultural heritage to the future generation. 

One thought on “বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কয়েটি বিখ্যাত গোয়েন্দা সিনেমা

Please share your valuable comments and feedback

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!

Discover more from Kuntala's Travel Blog

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading